স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজাতে এক গৃহবধূর মাথা ও হাতের কবজিবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার স্ত্রীকে নৃ/শং/সভাবে খু/ন করার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, প্রায় ৬-৭ মাস আগে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই তৃতীয় বিয়ে করে তারেক। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী শাহিদা আক্তার মুন্নীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। প্রথমে রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুন্নীকে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হ/ত্যা করে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মাথা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
গত ১১ এপ্রিল ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকার একটি ডোবা থেকে বেডশিট মোড়ানো অবস্থায় মুন্নীর মাথা ও কবজিবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তার স্বামী তারেক পলাতক ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার তারেককে নিয়ে বুধবার দিনব্যাপী বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সে স্বীকার করেছে যে, বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাত সে নদীর নতুন ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহের ওই অংশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে।
নিহত মুন্নীর মা বাদী হয়ে তারেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।
ছবি-সংগৃহীত


