যশোরে সাংস্কৃতিক অনুদানে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদ

যশোরে সাংস্কৃতিক অনুদানে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

চলতি বছরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারি অনুদানের তালিকায় যশোরে বিগত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সুবিধাভোগী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নিপীড়িত-বঞ্চিত সংগঠনগুলোকে উপেক্ষার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠী, যশোর’।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত আহমেদ ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেসব সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্ষমতার তোষামোদি করেছে, মুক্তচিন্তা ও বিরোধী মত দমনে ভূমিকা রেখেছে এবং স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় ছিল— অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এসেও তাদের পুনরায় সরকারি অনুদানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ছাত্র-জনতার গণ-আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তারা বিবৃতিতে প্রধান তিনটি বিষয় তুলে ধরেন:

  • ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের পুনর্বাসন: যশোরে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদ সমর্থক ও সুবিধাভোগী সংগঠনগুলোকে অনুদান দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তাদের অপকর্মকে পুরস্কৃত এবং সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

  • উৎপীড়িতদের অবহেলা: বিগত স্বৈরাচারী দিনগুলোতে যেসব প্রগতিশীল ও বিপ্লবী শিল্পী-সংগঠন মামলা, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের এখনো কোনো সঠিক মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

  • বিপ্লবের চেতনার অবমাননা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এই ধরনের পক্ষপাতিত্ব এবং পুরনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা দেশের স্বাধীনতাকামী ও বিপ্লবী জনগণের আত্মত্যাগকেই অবমাননা করার শামিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারের নিকট ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়: ১. যশোরের অনুদানপ্রাপ্তদের বিতর্কিত তালিকা অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর সংগঠনগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। ২. বিগত আমলে নিগৃহীত, বঞ্চিত এবং প্রকৃত বৈষম্যবিরোধী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুদান বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ৩. অনুদান বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জেলা পর্যায়ে একটি নিরপেক্ষ তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।

তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে সংস্কৃতির ভিত্তি ছিল চাটুকারিতা, নতুন বাংলাদেশে তার পুনর্বাসন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে তাদের ভুল স্বীকার করে এই অনুদান তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে যশোরের সকল নির্যাতিত ও বঞ্চিত সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *