যশোরে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় জালিয়াতি

যশোরে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় জালিয়াতি

 স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা অসহায় রোগীদের টার্গেট করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২ মে) সকালে বাঘারপাড়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন তার স্ত্রী আলোমতিকে (৩৫) চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। ফারুক হোসেন জানান, হাসপাতালের টিকিট কাটার পরপরই ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালাল তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখায় যে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হাসপাতালে নেই, তিনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসছেন। দালালের কথায় বিশ্বাস করে সেখানে যাওয়ার পর ডা. মামুনুর রশিদ ১ হাজার ৩০০ টাকা দাবি করেন। ফারুকের কাছে ধার করা ৮০০ টাকা থাকায় একটি পরীক্ষা কমিয়ে সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে ফিরে ফারুক দেখতে পান যে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক হাসপাতালেই আছেন। পুনরায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে বের করে দেওয়া হয়। একইভাবে মণিরামপুর উপজেলার মাছনা গ্রামের আব্দুল বারিকের কাছ থেকেও বিভিন্ন পরীক্ষার নামে দুই হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফারুক হোসেন হাসপাতাল পুলিশ বক্সে অভিযোগ করেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশের তড়িৎ হস্তক্ষেপে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী আলোমতির ৮০০ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে আব্দুল বারিকের টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মমিনুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তবে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাশেদ হাসান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সচেতন মহলের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে রোগীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। হাসপাতাল এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং এ ধরনের প্রতারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *