যশোরে জাল সনদে  শিক্ষক নিয়োগ

যশোরে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী এক সহকারী শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো ওই শিক্ষকের নাম ইদ্রিস আলী। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে এবং শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিপিএড) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাল শিক্ষাগত সনদের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস। দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কয়েকজন শিক্ষক ওই অবৈধ নিয়োগ লাভ করেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক চাপের কারণে দীর্ঘদিন মামলার আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির ও ধামাচাপা পড়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলার বাদী রুহুল কুদ্দুস আইনি প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি’কে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডি, যশোরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার রহমান আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সিআইডি’র প্রতিবেদনে তিন শিক্ষকের সনদ সুনির্দিষ্টভাবে জাল হওয়া এবং এই জালিয়াতির সাথে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

আদালত সিআইডি’র এই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পূর্বে আসামিদের বিরুদ্ধে সশরীরে হাজির হওয়ার সমন জারি করেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার ধার্য তারিখে শিক্ষক ইদ্রিস আলী আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার শুনানিতে অনুপস্থিত থাকা অপর তিন আসামি—সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *