স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলা এবং তাঁর স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই জনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনার পর গত রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) রাতে থানা পুলিশ অভিযোগটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের সাথে বাদী অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩০ জুন বিকেলে অ্যাডভোকেট তুহিন জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে পেশাগত কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাসভবনে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে শহরের ব্যস্ততম রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর গতিরোধ করে। এ সময় আসামিরা তাঁর বুকে আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণসহ অপূরণীয় ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকা জোগাড় করার জন্য ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয় তারা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিকৃত মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ৬ জুলাই বিকেলে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা বেজপাড়া এলাকায় বাদীর নিজস্ব বাসভবনে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। ওই সময় আইনজীবী বাসায় না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে এবং বাদীর স্ত্রীকে গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চরম ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে ঘরে থাকা নারীদের চিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা লাঠিসোটা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা দুই দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে পুরো পরিবারকে সপরিবারে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং জীবনের চরম ঝুঁকি বিবেচনা করে ভুক্তভোগী আইনজীবী গত ৮ জুলাই যশোর বিজ্ঞ আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার আদেশ দেন। সেই আদেশ মোতাবেক রবিবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


