স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও ধারাবাহিক আন্দোলনের পর অবশেষে মুক্ত হলো যশোরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তেশ্বরী নদী। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ‘বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলন’-এর ধারাবাহিক গণসচেতনতা, মানববন্ধন ও আইনি প্রচেষ্টার মুখে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) মাননীয় জেলা জজ আদালত কর্তৃক পূর্বের বিতর্কিত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রহিত করা হয়েছে। এর ফলে যশোর সদরের ভাতুড়িয়া-ছোট নারানপুর এলাকার মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ ভরাট অংশ উচ্ছেদ ও নদী পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
আদালতের এই ঐতিহাসিক আদেশের পর আজ বৃহস্পতিবার (২১মে) ভোর ৬টা থেকে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, সচেতন নাগরিক ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো প্রান্তিক কৃষক সম্মিলিতভাবে মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ ভরাট অংশ উচ্ছেদ ও পুনঃখনন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এই বিশাল গণউচ্ছেদ ও খনন কর্মসূচি আগামী দুই দিনব্যাপী বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানা গেছে।
বাপার দীর্ঘ সংগ্রাম ও বিল হরিণার কান্না: আন্দোলনকারীরা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদারদের ভরাট, দখল বাণিজ্য এবং পানি নিষ্কাশন পথে স্থায়ী বাধার কারণে ঐতিহ্যবাহী ‘বিল হরিণা’ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছিল। বছরের পর বছর কৃত্রিম বন্যা, ফসলহানি ও চরম জনদুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই নদীকে বাঁচাতে বাপা এবং ‘বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলন’ দীর্ঘদিন ধরে স্মারকলিপি প্রদান, প্রশাসনিক দপ্তরে আবেদন ও মাঠে ময়দানে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
ভোর থেকে কৃষকদের মহাসংগ্রাম: আজ সকাল থেকেই ভাতুড়িয়া-ছোট নারানপুর মুক্তেশ্বরী নদীর পাড়ে এক উৎসবমুখর ও বিপ্লবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কুদাল, ঝুড়ি ও খনন সামগ্রী নিয়ে শত শত পরিবেশকর্মী ও কৃষক সেচ্ছায় এই খনন কাজে অংশ নেন।
বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন ‘স্ফুলিঙ্গ’-কে বলেন, “এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নদী রক্ষার আন্দোলন নয়; এটি আমাদের বিল হরিণা অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক, পরিবেশ ও হাজার হাজার মানুষের জনজীবন রক্ষার জীবন-মরণ আন্দোলন। মহামান্য আদালত দখলদারদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় ন্যায়ের জয় হয়েছে। আমরা বাপার সকল সদস্য, পরিবেশকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের এই গণমানুষের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ উচ্ছেদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, আগামী দুই দিনের এই পুনঃখনন কাজ শেষ হলে মুক্তেশ্বরী নদী আবার তার পুরনো রূপ ফিরে পাবে এবং বিল হরিণা অঞ্চলের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন যশোরের হাজার হাজার প্রান্তিক কৃষক।ছবি সংগৃহীত।


