মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২১ বছর বয়সী এক তালাকপ্রাপ্ত তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই লম্পটতার কারণে ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত একই গ্রামের বাসিন্দা মধ্যবয়সী রিজাউল গাজীর (৪৫) বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে গোবিন্দপুর গ্রামসহ স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই তালাকপ্রাপ্ত তরুণীকে একই গ্রামের মৃত মুসা গাজীর ছেলে রিজাউল গাজী বেশ কিছুদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তরুণীর সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রিজাউল তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক বা ধর্ষণ করেন। দীর্ঘদিনের এই অনৈতিক সম্পর্কের ফলে ওই তরুণী শারীরিক পরিবর্তনের মুখে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় এবং নিজের সামাজিক ও আইনি স্বীকৃতির দাবিতে সম্প্রতি রিজাউল গাজীকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু অভিযুক্ত রিজাউল গাজী বিয়ে করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো ওই অসহায় তরুণীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন বলে থানায় দেওয়া অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর পরিবার সমাজ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘ মেয়াদে ধর্ষণের শিকার হওয়া তরুণীর লিখিত অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে চলছে। মামলা রুজু হওয়ার পরপরই ভুক্তভোগী তরুণীকে শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিজাউল গাজী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান শুরু করেছে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।


