কনস্টেবল ইকরামুলের বাজিমাত

কনস্টেবল ইকরামুলের বাজিমাত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের উপশহর, কিসমত নওয়াপাড়া ও পাগলাদহ এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজদের একের পর এক গ্রেফতার করে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিয়েছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি। বিশেষ করে ফাঁড়ির কনস্টেবল ইকরামুল ইসলামের একক সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা ও চৌকস সোর্সিংয়ের ওপর ভর করে গত কয়েকদিনে অবরুদ্ধ করা হয়েছে ৪ শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ সর্বমোট ২২ জন দাগী আসামিকে। মাঠ পর্যায়ের এই অসামান্য ও বীরত্বপূর্ণ কাজের অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ আজ কনস্টেবল ইকরামুল ইসলামকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করেছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ অভিভাবক।

আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে আয়োজিত জেলা পুলিশের মে বাৎসরিক অপরাধ পর্যালোচনা ও জুন মাসের নিয়মিত মাসিক কল্যাণ সভায় কনস্টেবল ইকরামুল ইসলামের হাতে এই সম্মাননা স্মারক, অর্থ ও বিশেষ প্রশংসাপত্র তুলে দেন সভার সভাপতি ও যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

উপশহর ফাঁড়ি ও অপরাধ নথির খতিয়ান থেকে জানা যায়, সম্প্রতি যশোর উপশহর এলাকায় বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ অপরাধী সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস তুলেছিল। এর মধ্যে শহরের কিসমত নওয়াপাড়া তথা উপশহর এলাকার সাধারণ মানুষের ঘুম কেড়ে নেওয়া শীর্ষ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ‘খোড়া হাসান’-কে এক দুঃসাহসিক অভিযানে বুক চিতিয়ে গ্রেফতার করেন কনস্টেবল ইকরামুল। এছাড়া উপশহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পট ও রাস্তাঘাটে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ স্কুল-কলেজগামী ছেলেমেয়েদের টার্গেট করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া আলোচিত মূল হোতা ও চাঁদাবাজ মেহেদি হাসান এবং তার মূল সহযোগীকেও হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি।

একই সাথে সদর উপজেলার পাগলাদহ এলাকার ত্রাস, পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ শহিদুল ইসলামকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অবরুদ্ধ করে ফাঁড়ির আভিযানিক দল। কনস্টেবল ইকরামুলের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির বিভিন্ন টিম দিনরাত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জিআর, সিআর নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং মোবাইল কোর্টের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ সর্বমোট ২২ জন দাগী অপরাধীকে লোহার খাঁচায় পুরেছে।

আজকের এই জমকালো কল্যাণ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. রাজিবুল ইসলাম পূর্ববর্তী কল্যাণ সভার সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পরে জেলার বিভিন্ন ইউনিট ও থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা সরাসরি পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরলে এসপি কয়েকটি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশনা দেন। সভায় কনস্টেবল ইকরামুল ইসলামসহ জেলাজুড়ে অস্ত্র-মাদক উদ্ধার ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ৩৩ জন কৃতী পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় কনস্টেবল ইকরামুল ইসলাম জানান, “এই পুরস্কার আমার পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মনোবল আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উপশহরসহ যশোর জেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ না করা পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমার এই সম্মুখ যুদ্ধ ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাখাওয়াত হোসেন, জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তা, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুম খান, যশোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই এডমিন) মাহফুজুর রহমান, যশোর ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুজন কুমার মণ্ডলসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *