স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে একটি তালাবদ্ধ ফাঁকা বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে অজ্ঞাত চোরচক্র ঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে উপজেলার উত্তর লাউড়ী গ্রামে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উত্তর লাউড়ী গ্রামের বাসিন্দা হাসাবুর রহমান শাওনের বাবা আবুল হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম বেশ কয়েকদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁদের দেখাশোনার জন্য হাসাবুর রহমানও হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে একদল অজ্ঞাত চোর বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে হাসাবুর রহমান শাওন হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে চুরির বিষয়টি টের পান। তিনি দেখতে পান, ঘরের ভেতরের আলমারি, লোহার বাক্স এবং প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোব ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। কাপড়চোপড়সহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র মেঝেতে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী হাসাবুর রহমান জানান, চোরচক্র আলমারিতে রাখা গচ্ছিত নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি স্বর্ণের আংটি ও একটি নাকফুলসহ প্রায় লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য রাখা এই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে কেউ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই চোরচক্রটি পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “উত্তর লাউড়ী গ্রামে চুরির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে চোরচক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামীণ জনপদে রাতের বেলা পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। ছবি সংগৃহীত।

