মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবকের নগদ টাকা, আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার আর্থিক ও উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক অর্থ ফেরত পেতে আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর ভাইয়ের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষ প্রবাসী যুবককে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন— উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের তকিব উদ্দিনের মেয়ে সোহানা খাতুন ও তাঁর ভাই সোহেল রানা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় ফেসবুকের মাধ্যমে প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সাথে তরুণী সোহানা খাতুনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জেরে ২০২২ সালে দুই পরিবারের মধ্যেও সখ্যতা তৈরি হয় এবং বিষয়টি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। এই সুযোগে তরুণী সোহানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাদ্দামের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, আইফোন, পড়াশোনার খরচ ও চাকরির সুবাদে নানা উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন— যার মোট মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
প্রবাসী সাদ্দাম হোসেন জানান, দীর্ঘদিন গভীর সম্পর্ক থাকার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরের দিকে তরুণী সোহানা ও তাঁর পরিবার হঠাৎ বিরূপ আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২২ মে (২০২৬) সাদ্দাম দেশে ফিরে আসেন এবং উভয় পরিবার আলোচনায় বসেন। সেখানে গত রমজানের ঈদের দ্বিতীয় দিন বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বিয়ের কেনাকাটাও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতেই সোহানার পরিবার কৌশলে নানা পারিবারিক অজুহাত দেখিয়ে এই বিয়েতে অপারগতা প্রকাশ করে।
সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভনে তাঁর কাছ থেকে এত টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার পরও পরবর্তীতে সোহানাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর পরিবার। এই প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাদ্দাম তাঁর দেওয়া অর্থ ও মালামাল ফেরত দিতে চাপ দেন। কিন্তু সোহানার পরিবার তা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
সাদ্দাম হোসেন বিদেশে থাকা অবস্থায় তাঁর অর্থ ফেরত পেতে গত ১৭ মে দেশের এক আইনজীবীর মাধ্যমে সোহানা ও তাঁর ভাইয়ের নামে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। সাদ্দাম হোসেনের আইনজীবী এস. এম. মনজুরুল হক জানান, “প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর জবাবে বিবাদী তরুণী সোহানার পরিবার অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে আদালতে একটি জবাব দাখিল করেছে।”
সাদ্দাম হোসেন আরও জানান, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর ১০ দিন পর দুটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে পরিচয় গোপন করে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৮ মে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে বিয়ের প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তরুণী সোহানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


