শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
একসময়ের আতঙ্কের জনপদ ও অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা থানা এখন খোলনলচে বদলে গেছে। একদা যে থানায় সাধারণ মানুষ যেতে ভয় পেতেন হয়রানি আর দালালের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কায়, বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের অভাবনীয় ও জনবান্ধব কর্মতৎপরতায় সেই থানাই এখন সাধারণ মানুষের পরম আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান থানা পুলিশের মানবিক আচরণ এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে শার্শাবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বর্তমান টিমের পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।
ভৌগোলিক কারণেই দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভারতের সীমান্তবর্তী এই শার্শা অঞ্চলটি একসময় মাদক চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, খুন, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে এখন বিরাজ করছে শান্তির সুবাতাস। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিনুল হক এবং সেকেন্ড অফিসার আশীষ সরকারসহ একদল চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার দিনরাত নিরলস পরিশ্রমে অপরাধের গ্রাফ এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে কোনো সমস্যা হলে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রমের জোরালো ভূমিকার কারণে পুলিশের সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। গ্রামগঞ্জে যেকোনো ছোটখাটো ঘটনা বা ‘পান থেকে চুন খসলেই’ পুলিশের দ্রুত উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক নজরদারি চোখে পড়ার মতো। ফলে সাধারণ মানুষ এখন জিডি থেকে শুরু করে যেকোনো অভিযোগ নিয়ে সরাসরি ও নির্দ্বিধায় থানা অভিমুখে ছুটছেন। কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই মিলছে আইনি প্রতিকার।
শার্শা থানা এলাকার বর্তমান টিমের এমন কোনো দিন নেই, যেদিন মাদক কারবারি বা কোনো না কোনো অপরাধী আইনের জালে ধরা পড়ছে না। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানের কারণে চিহ্নিত মাদক সম্রাট থেকে শুরু করে উঠতি গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাসীরা এখন এলাকা ছেড়ে পলাতক, আর যারা আছে তারা তটস্থ থাকছে পুলিশের ভয়ে। প্রতিদিন একের পর এক সফল অভিযান স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রশংসার সাথে প্রকাশিত হচ্ছে। ভৌগোলিক বিশালতার কারণে বিপুল এই জনসংখ্যাকে সামাল দিতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হলেও, ওসি শামিনুল হকের নেতৃত্বাধীন এই টিম বিন্দুমাত্র ক্লান্তি না দেখিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “বর্তমান শার্শা থানা পুলিশ পেশাদারিত্বের পাশাপাশি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তারা মানুষের আত্মিক ভালোবাসার স্থানটি দখল করে নিয়েছে।” সাধারণ মানুষ মনে-প্রাণে আশা ও প্রার্থনা করেন, শার্শা থানা প্রশাসনের এই সততা, দক্ষতা ও জনকল্যাণমুখী মানবিক পরিবেশ যেন আজীবন ও স্থায়ীভাবে এই সীমান্তে বিরাজ করে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

