মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পলাশ বিশ্বাস (৪৭) নামে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকালে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে তার নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পলাশ বিশ্বাস ভবানীপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী অভয়নগর উপজেলার ‘আল হেলাল ইসলাম একাডেমি হাইস্কুলে’ সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও ফুলতলা এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করা পলাশ বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী, কলেজপড়ুয়া এক ছেলে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সুখে-শান্তিতেই বসবাস করতেন। পরিবারে দৃশ্যমান বড় কোনো কলহ বা অশান্তি ছিল না। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) ভুগছিলেন এবং এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। শনিবার ভোরে স্বজনরা বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিক আলামত ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র মানসিক বিষণ্নতার কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে মণিরামপুর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষকের এমন অকাল প্রয়াণে ভবানীপুর গ্রাম ও তাঁর কর্মস্থল আল হেলাল একাডেমিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি সংগৃহীত।

