স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশ ও অধীনস্থ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে উপজেলা জুড়ে এক বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক নারীসহ সর্বমোট ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু করে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
কেশবপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোছাঃ রোকসানা খাতুনের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং সুনির্দিষ্ট পরোয়ানার ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই কঠোর পুলিশি পাহারায় যশোর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ওসির বিশেষ নির্দেশে থানা পুলিশের কয়েকটি দল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভাগ হয়ে এই ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হচ্ছে—উপজেলার ভোগতি-নরেন্দ্রপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৩), মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের বেল্লাল হোসেন (৩১), বড়পাথরা গ্রামের তুহিন মোল্লা, ছোটপাথরা গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪৬), কমলাপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৩৩), বাগদা গ্রামের জামাল হোসেন (৩৩) এবং বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের রিনা বেগম (৪৩)। দীর্ঘদিন ধরে এই আসামিরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর পাশাপাশি, কেশবপুর থানার অধীনস্থ চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের নেতৃত্বে ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে মেহেরপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সেই অভিযানে মেহেরপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত মোল্লা (৫০), রুহুল কুদ্দুস (৪০), মোকলেছুর রহমান (২৮) এবং সিহাব মোল্লা (১৮) নামের আরও চারজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সফলভাবে গ্রেফতার করা হয়। চিংড়া ক্যাম্পের এই দ্রুত ও কার্যকর আভিযানিক সফলতার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এই গণ-গ্রেফতারের বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোছা. রোকসানা খাতুন সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। তারই অংশ হিসেবে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এক নারীসহ মোট ১১ জন আসামিকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সফলভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই যশোর জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও শান্ত রাখতে পুলিশের এমন বিশেষ ও ঝটিকা চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে ওসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


