স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সীমানা প্রাচীর অরক্ষিত থাকার সুবাদে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের নতুন ক্রিকেট পিচ পা দিয়ে মাড়িয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। গত শুক্রবার বিকেলে কোনো এক সময় সদ্য প্রস্তুত করা এই পিচটির ওপর উঠে দুর্বৃত্তদের দল হাঁটাহাঁটি ও লাফালাফি করায় পিচটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে ও সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন প্রায় চার লাখ টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পটি দুর্বৃত্তদের ন্যাক্কারজনক আঘাতে এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ প্রান্তের সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই প্রাচীরটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। সেই দীর্ঘদিনের অরক্ষিত সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়েই শুক্রবার বিকেলে মাঠে অনায়াসে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তের দল।
সরেজমিনে গিয়ে এবং যশোর জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিসিবি’র বিশেষ অর্থায়নে আধুনিক ও মানসম্মত উপায়ে এই ক্রিকেট পিচটির নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। অথচ বর্তমানে প্রস্তুত করা পিচটির কাজ শেষ হওয়া পুরো অংশজুড়েই জুতো ও পায়ের গভীর ছাপ এবং কাদামাটির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে রয়েছে। পিচের ওপর উঠে হাঁটাহাঁটি ও লাফালাফি করায় পুরো পৃষ্ঠজুড়ে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এর ফলে নির্মাণাধীন পিচ জুড়ে পানি জমে গেছে এবং সমতল করা অংশটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পিচটিকে পুনরায় খেলার উপযোগী করতে এখন নতুন করে সমতলকরণ ও বিশাল সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, “উইকেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ ধাপে ছিল, কেবল মাত্র ওপরের অংশে বিশেষ ঘাস বোনার কাজটুকু বাকি ছিল। আগামী দুই দিনের মধ্যে পুরো পিচের ওপর ঘাস বুনে চার পাশ দিয়ে নেট দিয়ে ঘিরে রাখার সব প্রস্তুতি আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই দুর্বৃত্তরা পিচের ওপর নির্মম আঘাত হানল। একদল দুর্বৃত্তের এমন কাণ্ড শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, কাজ শেষ হওয়ার সময়সূচিকেও অনেক পিছিয়ে দিল।”
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “এ ঘটনায় যশোরের সমস্ত ক্রীড়া সংগঠকদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নষ্ট করে দেওয়া মানে যশোরের ভবিষ্যতের ক্রিকেট উন্নয়নের পথকে পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা। দীর্ঘদিন ধরে যশোরে কোনো ক্রিকেট লিগ হয় না। বিসিবি’র নবনির্বাচিত পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এবার সব প্রকার লিগ পুনরুজ্জীবিত করার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঠিক তার আগেই এমন ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রার প্রধান অন্তরায়। যারা কোনো দিনই যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের ভালো চায়নি, তারাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।”
যশোরের সর্বস্তরের ক্রিকেটার ও ক্রীড়ামোদী জনগণ অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

