স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হত্যা মামলার এক সন্দেহভাজন আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার শৌচাগারে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত যুবকের নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (২৫)। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বউবাজার এলাকা থেকে যাত্রীবেশী একদল ছিনতাইকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে এবং এর চালককে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে আসাদুজ্জামানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
আজ রবিবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার পরিকল্পনা ছিল পুলিশের। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাজতখানার ভেতরে থাকা শৌচাগারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা ভেন্টিলেশনের (ভেনটিলেটর) সাথে নিজের পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে ডিবি দাবি করেছে। ঘটনার পর আসামির পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা ডিবির পরিদর্শক ইকবাল বাহার সংবাদমাধ্যমকে জানান,”নিহত আসাদুজ্জামান একজন নিয়মিত মাদকসেবী ছিলেন। গতকাল গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি মাদক না পেয়ে চরম মানসিক অস্থিরতা ও অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। আমাদের হাজতখানায় সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রয়েছে। তিনি যে শৌচাগারে প্রবেশ করেছিলেন, তা আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি। প্রাথমিক আলামতে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে আসামির মৃত্যুর এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহটি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ছবি সংগৃহীত।


