রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) , নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের ১১ মে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ১৯৫৮ সালের ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নরহরিদ্রা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খোন্দকার আনোয়ারুজ্জামান। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে লিসান্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আল-হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা’ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। একাডেমিক ক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। তার তত্ত্বাবধানে ১২ জন গবেষক পিএইচডি এবং ৩০ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার রচিত বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ’ গ্রন্থটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল মাদ্রাসার সম্মান (অনার্স) পর্যায়ে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ‘বুহুসুন ফি উলূমিল হাদীস’এবং ‘হাদিসের নামে জালিয়াতি’ বই দুটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে স্থান পেয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা ও চ্যানেল নাইনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি চ্যানেলে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর তার আলোচনা সর্বমহলে প্রশংসিত ছিল। তিনি মার্কিন ইসলামি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আইটিভি ইউএস’-এর উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতিমা আবুল আনসার, একমাত্র পুত্র খোন্দকার উসামা জাহাঙ্গীর এবং তিন কন্যা—জাকিয়া খোন্দকার, রিফাত খোন্দকার ও বুসাইনা খোন্দকারসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
যুগশ্রেষ্ঠ এই জ্ঞানসাধকের প্রয়াণ দিবসে আজ ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের মাধ্যমে আজও তার সেবামূলক ও দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান প্রচার এবং চরমপন্থা ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের আদর্শ আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান।
ছবি সংগৃহীত।

