ছেলে গ্রেফতারের ভুয়া কান্নায় লাখ টাকা দাবি

ছেলে গ্রেফতারের ভুয়া কান্নায় লাখ টাকা দাবি

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরে সাধারণ মানুষের সরলতা ও সন্তানের প্রতি দুর্বলতাকে পুঁজি করে ‘ডিবি পুলিশ’ (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয়ে অভিনব কায়দায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক ভয়ঙ্কর ও সুচতুর প্রতারক চক্রের সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা এক ভুক্তভোগী বাবার জিডি (সাধারণ ডায়েরি) থেকে এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। চক্রটি মূলত ফোনে ডিবি অফিসার সেজে এবং সন্তানের ভুয়া কান্নার আওয়াজ শুনিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অভিভাবকদের আতঙ্কিত করে তুলছে এবং বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে যশোর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ ‘বিসমিল্লাহ নাস্তা ঘর’ নামক নিজ দোকানে অবস্থান করছিলেন বিরামপুর (পার্ট ৪-নওয়াপাড়া) এলাকার বাসিন্দা মো. শাহিনুর রহমান শাহীন (৫৫)। ঠিক ওই সময় তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা দুটি নম্বর (০১৬২৯-৩৮৪৮৩২ এবং ০১৮২৮-৫৬৩০১২) থেকে একটি ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে ‘ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

ভুয়া ডিবি কর্মকর্তা শাহিনুরকে জানান, তাঁর ২০ বছর বয়সী তরুণ ছেলে মো. পিয়ালকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে এখনই আদালতে চালান করে দেওয়া হবে। শাহিনুর কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতারক চক্রটি ফোনের ওপার থেকে একটি ছেলের কান্নাকাটি ও আকুতি-মিনতির আওয়াজ শোনায়। সেই কণ্ঠস্বর হুবহু তাঁর নিজের ছেলের মতো মনে হওয়ায় শাহিনুর চরম আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ছেলেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসে।

ছেলের বিপদের কথা চিন্তা করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শাহিনুর তড়িঘড়ি করে স্থানীয় একটি দোকান থেকে প্রতারকদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে (০১৬৮৪-৫৫৭৮২০) পাঁচ বারে সর্বমোট ২৭,০০০ টাকা বিকাশ করে দেন। পরবর্তীতে চক্রটি আরও টাকার জন্য চাপ দিলে শাহিনুরের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি দ্রুত নিজের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাঁর ছেলে পিয়াল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় নিজ ঘরেই অবস্থান করছে। প্রতারকদের দেওয়া নম্বরে পুনরায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নম্বরগুলো তাৎক্ষণিক বন্ধ পাওয়া যায়। জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গতকাল ১৭ জুন মো. শাহিনুর রহমান শাহীন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১৪৫৬, তারিখ: ১৬/০৬/২০২৬) দায়ের করেছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *