ইজিবাইক চালককে খুন করে বাড়ির উঠানে লাশ গুম!

ইজিবাইক চালককে খুন করে বাড়ির উঠানে লাশ গুম!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

খুলনা মহানগরীতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক ইজিবাইক চালককে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়ির উঠানে লাশ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার প্রায় পাঁচ মাস পর মারুফ (৩৫) নামে ওই চালকের মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় এই লোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এই বর্বরোচিত অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এক দম্পতিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) দুপুর ৩টার দিকে নগরীর হরিণটানা থানার রেলব্রিজ সংলগ্ন বুলু ওয়েল আবাসিক এলাকার মুরাদ মোল্লার বাড়ির উঠান থেকে মাটি খুঁড়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ঘাতক দম্পতি হলেন— ওই এলাকার বাসিন্দা মুরাদ মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী ফালগুনী খাতুন। লুণ্ঠিত ইজিবাইকটি টুকরো টুকরো করে বিক্রি ও লাশ গুমে তারা দুজন সরাসরি অংশ নেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুরাদ মোল্লা ও ফালগুনী দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র ঝগড়া-বিবাদ হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে একে-অপরকে ঘায়েল করতে তারা প্রায়ই অতীতে করা এক গোপন অপরাধের কথা উল্লেখ করে দোষারোপ করত। তর্কের মাঝেমধ্যে ওই নিখোঁজ ইজিবাইক চালকের অবর্তমান প্রসঙ্গের অবতারণা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সকালেও মুরাদ মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী ফালগুনীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে মুরাদ উত্তেজিত হয়ে ফালগুনীকে বেদম মারধর করলে, ক্ষোভে ও প্রতিশোধের স্পৃহায় ফালগুনী সরাসরি পুলিশকে ফোন করে তাঁর স্বামীর ইজিবাইক চালক মারুফকে হত্যার রোমহর্ষক বিষয়টি অবহিত করেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরপরই হরিণটানা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পতিকে জিম্মায় নেয়। পরবর্তীতে তীব্র বৃষ্টির মধ্যেই তাঁদের দেখানো স্থানে দুপুরের দিকে খননকাজ শুরু করলে মাটি খুঁড়ে চালক মারুফের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন মামলার প্রাথমিক বিবরণ দিয়ে জানান, নিহত ইজিবাইক চালক মারুফ আসামিদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত পবিত্র রমজান মাসের কোনো এক রাতে মুরাদ ও ফালগুনী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফোন করে মারুফকে তাদের বাসায় ডেকে নেয়। পরে তিনি ইজিবাইকে বসা থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে ওত পেতে থাকা মুরাদ তাঁর গলায় শক্ত দড়ি পেঁচিয়ে এবং ফালগুনী তার হাত চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে ওই দিন রাতেই বাড়ির উঠানে গভীর গর্ত করে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর অপরাধ লুকাতে তারা ইজিবাইকটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে বাজারে লোহা হিসেবে বিক্রি করে দেয়।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফালগুনী স্বীকার করেছে যে, পাঁচ মাস আগে ইজিবাইকটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই তারা পঙ্গু চালক মারুফকে ডেকে এনে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় দেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। সুরতহাল শেষে কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মারুফের স্থায়ী ঠিকানা ও প্রকৃত পরিচয় সম্পূর্ণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ঘাতক দম্পতির বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের সুনির্দিষ্ট ধারায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *