স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) খাত থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে ‘১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ এবং যশোর জিলা স্কুলের ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “অতীতে আমাদের দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পরবর্তীতে তা গ্যাস এবং কয়লা নির্ভরতায় রূপ নিলেও তার প্রতিটিই প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করছে। বর্তমান সরকার পরিবেশ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই কারণে এবারের বাজেটে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “আগামীতে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এমন এক আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে শহরের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে আমরা বিপুল পরিমাণ গ্রিন এনার্জি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদান পদ্ধতিকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় করে তুলতে হবে। এটিই আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্দেশ্য। পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত মানবিক ও অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের অর্জিত মেধা ও যোগ্যতা দেশের কল্যাণে, বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও। অনেক সময় বন্ধুরা অ্যাডভেঞ্চারের লোভ দেখিয়ে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, সেখানে নিজেদের নৈতিকতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই; জীবন যেখানে আটকে যায়, সেখান থেকেই নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করতে হবে।”
পৃথক ও যুগপৎ এ দুটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন— যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মুঃ আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুচারু বাস্তবায়নে ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে যশোর জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট এই সুউচ্চ একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। এটি চালু হলে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের দীর্ঘদিনের আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট সম্পূর্ণ দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। ছবি সংগৃহীত।


