বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিন লাভ করে বীরদর্পে নিজ এলাকায় ফিরেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় প্যানেল চেয়ারম্যান ও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) শেষ বিকেলে বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে তিনি কলাপাড়া উপজেলায় এসে পৌঁছান।
জহিরুল ইসলাম জহির কলাপাড়া পৌঁছানোর সাথে সাথে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বর্ণিলভাবে বরণ করে নিজ এলাকায় নিয়ে আসেন। এ সময় দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন দলীয় নেতাকর্মীসহ আপামর বিক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ। পরবর্তীতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাখিমারা বাজারে উপস্থিত হয়ে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও আপামর জনতার পক্ষ থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা ও পুষ্পমাল্য গ্রহণ করেন।
এ সময় তরুণ এই জননেতার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পাখিমারা বাজারে এক সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা সমাবেশ চাক্ষুষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নীলগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফজলুল হক মৃধা, কলাপাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির জুয়েল সিকদার এবং নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) শামসুল হক। এ সময় উপস্থিত জনস্রোতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহিরের দিন দিন বাড়তে থাকা আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সফলতায় চরমভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট মহল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মানসিকতা নিয়ে এই মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছিল। বক্তারা এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চাতুর্যপূর্ণ মামলার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানান।
উল্লেখ্য, বিগত ৩ মার্চ নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের নেপথ্য ইন্ধনে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চাক্ষুষ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জহিরুল ইসলাম জহিরকে ওই মামলার অন্যতম আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন লাভ করেন। আইনিভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে গতকাল এলাকায় ফেরার পর কলাপাড়ার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


