স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে দেশের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) অফিসগুলো। টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অডিটে। এই দুর্নীতির বিষবৃক্ষ থেকে বাদ পড়েনি যশোর জেলা ও এর উপজেলা অফিসগুলোও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৩ হাজার ২৪টি অডিট আপত্তি ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে ৯৩০টি অত্যন্ত গুরুতর। প্রায় ১৫ কোটি টাকার সরাসরি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন দেশের প্রায় ৪০০ জন পিআইও ও ডিআরআরও।
দুর্নীতির ধরন যেমন:
- টাকা জমা না দেওয়া: প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর তা নিজেদের পকেটে রাখছেন।
- নামসর্বস্ব প্রকল্প: ভুয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজারের নাম ব্যবহার করে টিআর ও কাবিখার বরাদ্দ তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- একই স্টেশনে বছরের পর বছর: নীতিমালায় ৩ বছর থাকার কথা থাকলেও যশোরের অনেক উপজেলায় কর্মকর্তারা ৫ থেকে ৭ বছর ধরে একই স্টেশনে গেড়ে বসেছেন। বদলি ঠেকাতে কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন মামলার।
যশোর জেলা ও উপজেলার চিত্র:
যশোর জেলা ত্রাণ অফিস ও জেলার ৮টি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসগুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও হতদরিদ্রদের গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও মণিরামপুর,চৌগাছা সহ বিভিন্ন উপজেলায় নামসর্বস্ব প্রকল্পে বরাদ্দের অভিযোগ বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে উঠলেও তা ‘অদৃশ্য কারণে’ ফাইলবন্দি হয়ে থাকে।
কঠোর অবস্থানে মন্ত্রণালয়:
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৯ জনকে শোকজ করা হয়েছে এবং বড় অনিয়মগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও জানান, আগের সরকারের সময় অনিয়ম হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন বদলি নীতিমালার মাধ্যমে একই স্টেশনে বছরের পর বছর থাকার সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ও স্ফুলিঙ্গের নিজস্ব প্রতিবেদক।


