গরু বিক্রির সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট :বাস আটক!

গরু বিক্রির সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট :বাস আটক!

রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
২৭ মে ২০২৬, বুধবার
ঢাকায় কষ্টার্জিত পশুর হাটের গরু বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না ঝিনাইদহের দুই ব্যবসায়ীর। পথিমধ্যে নৃশংস ‘মলম পার্টি’র বিষাক্ত ছোবলে সর্বস্ব হারিয়েছেন তাঁরা। খোয়া গেছে নগদ ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতির ঘটনায় বাসের সুপারভাইজারের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ‘ঝিনাইদহ লাইন’ (JLine) পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুপারভাইজার পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী নিঃস্ব দুই ব্যবসায়ী হলেন— কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার আবু বক্করের ছেলে ওহেদুল ইসলাম (৪৫) এবং একই উপজেলার কুশনা এলাকার ইবাদত মল্লিকের ছেলে সবুজ (৪০)।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওহেদুল ও সবুজ গত রাতে ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে তাঁদের পালিত ১৫টি গরু বিক্রি করেন। এর মধ্যে ওহেদুলের ৮টি গরুর বিক্রয়লব্ধ ১০ লাখ টাকা এবং সবুজের কাছে ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পকেটে সাড়ে ১৭ লাখেরও বেশি টাকা নিয়ে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশ্যে গাবতলী থেকেই ‘ঝিনাইদহ লাইন’ (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৭২১৩) নামক নৈশকোচে ওঠেন।
অভিযোগ উঠেছে, যাত্রাপথের কোনো এক সুযোগে বাসের ভেতরেই মলম পার্টির সংঘবদ্ধ চক্র তাঁদের চোখে-মুখে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ করে অবশ করে ফেলে। এরপর তাঁদের কাছে থাকা ওহেদুলের ১০ লাখ এবং সবুজের ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা— সর্বমোট ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয় চক্রটি।

ভোররাতের দিকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের আংশিক চেতনা ফিরলে তাঁরা টাকা চুরির বিষয়টি টের পান। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় বাসের সুপারভাইজারের গতিবিধি ও আচরণে তাঁদের তীব্র সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে বাসের ভেতর শোরগোল শুরু হলে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে চতুর সুপারভাইজার কোটচাঁদপুরে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। সুপারভাইজারের এই আকস্মিক পলায়ন মলম পার্টির সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগসাজশের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৭২১৩ নম্বরের বাসটি কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত জনতাকে বিস্তারিত জানান। পশুর হাটের টাকা লুটের এই নির্মম ঘটনা শুনে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ‘ঝিনাইদহ লাইন’ পরিবহনের বাসটি ঘেরাও করে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা বাসটি পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনসারুল ইসলাম জানান, যেহেতু ঘটনাটি ঢাকার সীমানায় ঘটেছে এবং এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি, তাই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বাস মালিক পক্ষ যোগাযোগ করেছে। তারা আগামী বুধবার বৈঠকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে গরু বিক্রি করা দুই ব্যবসায়ী এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বাসের স্টাফদের সহযোগিতা ছাড়া চলন্ত বাসে এত বড় অঙ্কের টাকা লুট করা অসম্ভব। এ ঘটনায় জড়িত মলম পার্টির মূল হোতা ও পলাতক সুপারভাইজারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে টাকা উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *