পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকায় মুক্ত ২ নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকায় মুক্ত ২ নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এবং ‘ফেক নিউজ’ (ভুল খবর) ছড়ানোর অভিযোগে যশোরের দুই আলোচিত নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাদের মুক্তি দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর হলেন— রেশমা বেগম ওরফে তাসনিম ফুয়াদ এবং ডালিয়া খাতুন।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৮ মে) দুপুরে যশোর শহরের পুলিশ লাইন এলাকা পার হয়ে কদমতলা এলাকার একটি বেসরকারি ছাত্রাবাস থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু ওই দুই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রকৃত সত্য যাচাই না করেই ভিউ এবং লাইক-কমেন্টের আশায় নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ ও আইডিতে প্রচার করেন যে, ‘যশোর পুলিশ লাইনের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে’।

একটি স্পর্শকাতর সরকারি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদর দপ্তর নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর ও অসত্য পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র বিভ্রান্তি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির উপক্রম তৈরি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে ওই দুই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে সুনির্দিষ্ট নোটিশে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তলব করা হয়।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির করার পর পুলিশ সুপার নিজেই ওই দুই নারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার ক্রাইমের আইনগত দিকগুলো তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ বাণিজ্যের জন্য চটকদার ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন উইংয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকদিন আগে রাজধানী ঢাকায় ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে সেটিকে ‘যশোরের বুকে ভয়াবহ আগুন’ বলে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিলেন তারা। এছাড়া, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা’ বলে রঙ চড়িয়ে পোস্ট করেছিলেন তাসনিম ফুয়াদ। একইভাবে ডালিয়া খাতুনের বিরুদ্ধেও ফেসবুকে নানা উসকানিমূলক ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আগের রেকর্ড রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি আরও জানান, সর্বশেষ পুলিশ লাইনের মতো সংবেদনশীল জায়গা নিয়ে চরম অসত্য তথ্য ছড়ানোর অপরাধে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক-শেয়ারের উদ্দেশ্যে কোনো ধরণের বিভ্রান্তিমূলক, উসকানিমূলক বা অসত্য পোস্ট ও ভিডিও আপলোড না করার কঠোর শর্তে তাদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা (Bond) নেওয়া হয়েছে। মুচলেকা সম্পাদনের পর তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ওসি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয়বার যদি তাদের আইডিতে এই ধরণের কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, তবে ডিজিটাল অপরাধের ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *