স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগরে সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির (মিড ডে মিল) আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য পাঠানো আকিজ ডেইরি লিমিটেডের ‘ফার্ম ফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের তরল দুধের প্যাকেটে মরা পোকা, বিবর্ণ রঙ ও তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়ার অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে।
এই চরম খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) ওলিউর রহমান বরাবর বুইকরা সিরাজকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবেরা খাতুন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবেরা খাতুন জানান, গত ৪ এপ্রিল আকিজ ডেইরি লিমিটেড কর্তৃক ২০০ মিলিলিটারের মোট ৪৫০ প্যাকেট ‘ফার্ম ফ্রেশ’ ইউএইচটি (UHT) দুধ বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার ( ১৮ মে) দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটিন অনুযায়ী শিশুদের মাঝে সেই দুধ বিতরণ করার সময় হঠাৎ শিক্ষকেরা লক্ষ্য করেন বেশ কিছু প্যাকেট ফুলে গেছে।
কৌতূহলবশত কয়েকটি প্যাকেট কাটা হলে দেখা যায়, ভেতরের দুধ সম্পূর্ণ খাবারের অযোগ্য, বিবর্ণ রঙ ধারণ করেছে এবং ভেতর থেকে ঝাঁঝালো টক টক পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, দুধের ভেতরে মরা পোকা ভাসতে দেখা যায়। এমন মারাত্মক চিত্র দেখে শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে দুধ বিতরণ বন্ধ করে দেন এবং বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে অবহিত করেন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার মতো এই স্পর্শকাতর ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের খবর পেয়ে এবং ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে মঙ্গলবার দুপুরে দুধ সরবরাহকারী ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা তড়িঘড়ি করে বুইকরা সিরাজকাটি স্কুলে ছুটে আসেন। তারা স্কুল থেকে নষ্ট ও পোকাযুক্ত ৩০টি প্যাকেট দ্রুত জব্দ করে নিয়ে যান এবং তার পরিবর্তে নতুন ৩০ প্যাকেট দুধ বুঝিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
স্কুলের এক সচেতন অভিভাবক নজরুল মোল্যা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই পচা ও মরা পোকাযুক্ত দুধ পেটে গেলে আমাদের নিরীহ সন্তানরা নিশ্চিত ফুড পয়জনিং হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতো। আকিজ ডেইরির মতো এত বড় কোম্পানির সরবরাহ করা দুধের ল্যাবরেটরি ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যারা শিশুদের মুখে বিষ তুলে দেওয়ার মতো অপরাধ করেছে, তদন্তপূর্বক তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এই গুরুতর গাফিলতির বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ ডেইরি লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার আওয়াল হোসেন চরম দায়সারা ও খামখেয়ালিপূর্ণ যুক্তি দিয়ে বলেন, “পরিবহনের সময় বা অন্য কোনো কারণে দুধের প্যাকেট ফেটে বাতাস ঢুকলে একটু সমস্যা হতেই পারে। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই তো আমরা ওই নষ্ট প্যাকেটগুলো পরিবর্তন করে দিয়েছি, তাহলে আর সমস্যা কী!”
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) ওলিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মিড ডে মিলের নষ্ট ও পোকাযুক্ত দুধের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আকিজ ডেইরি লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা অত্যন্ত দায়িত্বহীন ও দায় এড়ানো কথা বলেছে। বিষয়টি কোমলমতি শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আজই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”ছবি সংগৃহীত। ছবি সংগৃহীত।

