স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা এআরটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী শূকর ও শূকরজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও এই চুক্তির অধীনে কিছু পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে যেখানে শূকরের মাংস সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে অগ্রহণযোগ্য, সেখানে ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ক্যাপোকোলা, সালামি বা প্যানসেটার মতো শূকরজাত পণ্য আমদানির শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তড়িঘড়ি করে করা এই চুক্তিতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং দীর্ঘদিনের আমদানিনীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিনীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী যেসব পণ্য দেশে আনা আইনত দণ্ডনীয়, সেই তালিকায় থাকা পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা এক ধরনের প্রতারণা। শুধু ধর্মীয় স্পর্শকাতর পণ্যই নয়, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গরু, মুরগি ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন কৃষি পণ্যগুলোকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বা স্যানিটারি পরিদর্শনের নামে বাংলাদেশ আটকাতে পারবে না বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বড় হুমকি হতে পারে বলে খামারি ও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। যদিও সাবেক সরকার বিভিন্ন সময় মাংস আমদানির খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিল, কিন্তু চুক্তির পরিশিষ্টে থাকা বিভিন্ন শর্তাবলী ভিন্ন কথা বলছে। এই চুক্তির ফলে দেশীয় পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে, জনগণের স্বার্থবিরোধী এবং ধর্মীয় রীতির সাথে সাংঘর্ষিক এই চুক্তি দ্রুত বাতিল করা উচিত। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন আমদানিনীতিতেও এসব নিষিদ্ধ পণ্য নিষিদ্ধই থাকবে এবং দেশের আইনকে কোনো চুক্তির মাধ্যমে লঙ্ঘন করা হবে না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির চাপে পড়ে এমন অসম চুক্তি সই করার যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে ড. ইউনূস সরকারের শেষ সময়ে সই হওয়া এই বাণিজ্য চুক্তি এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।
সূত্র: কালের কন্ঠ


