স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার দায়ে পাঁচ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে এই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় দুই কিশোরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার দীর্ঘ ১৬ বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সালাহউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া, খন্দকার ওমর ফারুক, মো. রমজান ও সাদ্দাম। সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শিশু (ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক) বর্তমানে বড় হলেও তাদের শিশু আদালতে বিচার করে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কামরাঙ্গীচরের পাকাপুল এলাকা থেকে সাত বছরের ওই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর উদ্দেশ্যে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। পৈশাচিক এই চক্রটি শিশুটির গলা, বুক ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে তার মা খুজতে বের হয়। মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে ওই পরিত্যক্ত ঘর থেকে শিশুটি ‘মা মা’ বলে ডাক দেয়। তখন তার মা ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে।
প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও পরে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নথিভুক্ত হয়। র্যাব তদন্ত শেষে ২০১১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামে দুইজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

