রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ): বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন বলুহর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র ইন্তাজুল। আলমসাধু থেকে পড়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসা, ঘরে ছিল না খাবার। সেই অন্ধকার জীবনে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং লন্ডনের প্রবাসীরা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইন্তাজুলের চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।
যেভাবে কাটল আঁধার: ইন্তাজুলের করুণ দশা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক রফিক মন্ডলসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিক আহ্বান জানান। তাদের এই জোরালো লেখনী ও প্রচার দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে। সাংবাদিকদের এই আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং কোটচাঁদপুরের অত্যন্ত জনবান্ধব ও মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এনামুল হাসান।
লন্ডন প্রবাসী দুই দানবীরের অনন্য অবদান: এই মানবিক সংগ্রামে বড় ভূমিকা রেখেছেন কোটচাঁদপুর কামিল স্নাতকোত্তর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সামছুর হক (রহঃ) এর সুযোগ্য সন্তান লন্ডন প্রবাসী দানবীর ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সলেমানপুর মুন্সী পাড়ার কৃতি সন্তান লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার মুন্সী আবদুল্লাহ আল মামুন। তারা যৌথভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, ইন্তাজুলের স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য পরবর্তীতে গরু এবং দোকান কিনে দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন এই দুই দানশীল ব্যক্তিত্ব।
সরাসরি ইন্তাজুলের দুয়ারে প্রশাসন: শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার সময় ইউএনও এনামুল হাসান নিজে ইন্তাজুলের জীর্ণ কুটিরে উপস্থিত হন। তিনি নিজ হাতে সংগৃহীত এই অর্থ পরিবারের কাছে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রফিক মন্ডল, জাহাঙ্গীর আলম, মোস্তাফিজুর রহমান আপেল এবং মামুন হোসেন।
জনমনে প্রশংসা: ইউএনও-র এই সংবেদনশীলতা এবং সাংবাদিকদের নিরলস মেধার প্রশংসা করে স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন ও গণমাধ্যম এভাবে সমন্বয় করে কাজ করলে সমাজের কোনো অসহায় মানুষ বিনা চিকিৎসায় ধুঁকবে না। ইন্তাজুলের পরিবার এই সহায়তা পেয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।

