মোঃ মাসুদ রানা, (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে যাত্রীবাহী ‘সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের চালক আকস্মিকভাবে ইঞ্জিন বন্ধ করে উধাও হয়ে যাওয়ার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। চালকের এমন কাণ্ডে দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তি ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটি মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। নির্ধারিত দুই মিনিট যাত্রাবিরতি পার হয়ে গেলেও ট্রেনটি না ছাড়ায় যাত্রীদের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে নেমে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে ভিড় জমায় ও হট্টগোল শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি স্টেশনে এসে থামার পরপরই ড্রাইভার ইঞ্জিন লক করে কোথাও চলে যান। এরপর দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চারদিকে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে ঠিক কী কারণে বা কেন তিনি এভাবে ট্রেন থামিয়ে চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময় মেনেই ট্রেনটি মোবারকগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছেছিল। নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার সংকেত (সবুজ সিগন্যাল) দেওয়ার পরও ট্রেনটি সচল না হওয়ায় তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন চালক ড্রাইভিং সিটে নেই। তবে তিনি চালকের চলে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারেননি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, “সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে আমাদের স্টেশনে এসে দাঁড়ায়। দুই মিনিট পর নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার সিগন্যাল দেওয়া হলেও ট্রেনটি ছাড়ছিল না। পরে লোক পাঠিয়ে দেখা যায় ইঞ্জিনের দরজা লক করা এবং ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা কোথাও চালককে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর চালক ফিরে এলে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে স্টেশন ত্যাগ করে।”
ট্রেন রেখেই চালকের এমন রহস্যজনক অন্তর্ধানের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে রেলওয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মুখ খোলেননি। ছবি সংগৃহীত।

