এনসিপি দেশে ‘নতুন বন্দোবস্তের’ নামে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে –ঝিনাইদহে রাশেদ খাঁন

এনসিপি দেশে ‘নতুন বন্দোবস্তের’ নামে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে –ঝিনাইদহে রাশেদ খাঁন

মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন দিল্লিতে দাফন হয়েছে। দলটি আর কখনো দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলেও তিনি মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এনসিপি দেশে ‘নতুন বন্দোবস্তের’ রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে। তাঁর দাবি, এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতে ইসলামীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। জামায়াতকে তিনি ‘চালাক ও ধুরন্ধর’ রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপিকে গঠনমূলক রাজনীতির পথে আসার আহ্বান জানান।

এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির কয়েকজন নেতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে কটূক্তি করছেন। এভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করা হলে তার ‘উত্তম জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির কথিত ষড়যন্ত্রের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলছেন। শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন রাশেদ খান। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদ খান। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *