স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কুশীলবকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে যশোরে একটি বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা মোড় চত্বরে আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তফা আমির ফয়সালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগরের সাবলীল সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম। প্রধান বক্তা হিসেবে জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী এমপি।
সমাবেশে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, জুলাই-আগস্টে রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংস গণহত্যা এবং নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বিচার এ দেশের মাটিতেই নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনাসহ যারা এই পৈশাচিক সহিংসতার নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারী, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, দেশে পুনরায় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সরদার নুরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাপ্পীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠা এই সমাবেশ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষে না পৌঁছানো পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।


