শহিদ জয় :
আদালতে দীর্ঘমেয়াদি মামলা মোকদ্দমায় জড়ানোর আগেই ছোটখাটো আপসযোগ্য বিরোধসমূহ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যশোরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) যশোর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি। একই সঙ্গে তিনি যশোর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় একযোগে এই যুগান্তকারী ব্যবস্থার সূচনা করেন।
যশোরে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সংযোগ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান বেগম মাহমুদা খাতুন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, “আদালতে ঝুলে থাকা মামলার জট নিরসন, অসৎ উদ্দেশ্যে করা অযথা ও হয়রানিমূলক মামলা হ্রাস করা এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের অর্থ, সময় ও মানসিক ভোগান্তি কমাতেই প্রাক-আলোচনার এই আইনি পথ উন্মুক্ত করা হলো। এটি বাংলাদেশের সমসাময়িক বিচারব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক।” তিনি আরও জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মামলার জট অন্তত ৫০ ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার এবং প্রতি তিন মাস পর পর এই মেডিয়েশন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন বলেন, “আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করার আগেই লিগ্যাল এইডে সমঝোতার আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিচার বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কম খরচে দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আওতায় জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত ৭টি নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে আদালতে মূল মামলা দায়েরের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে গিয়ে মেডিয়েশনের আবেদন করতে হবে। ক্ষেত্রগুলো হলো:
-
পারিবারিক আদালত আইনসংক্রান্ত বিরোধ
-
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন
-
নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি বিরোধ
-
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের কয়েকটি বিশেষ ধারা
-
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন
-
যৌতুক নিরোধ আইনসংক্রান্ত অভিযোগ
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানা ও স্পেশাল মিডিয়েটর গাজী রহমানসহ বিচার বিভাগ এবং জেলা আইনজীবী সমিতির শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইনজীবীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য ও আইনি পরামর্শের জন্য বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯-এ বিনামূল্যে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


