স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আবারও এক দাপুটে ও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)। চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে র্যাবের চৌকস দল পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ভারতীয় সিরাপসহ তিন চিহ্নিত মাদককারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে মোট ১ হাজার ৪৩ বোতল ক্ষতিকর ‘উনক্যারেক্স’ ও ‘স্কাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকালে র্যাব-৬ এর যশোর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মাদককারবারিরা হলেন— যশোরের শার্শা উপজেলার গোবিন্দপুর বটতলা এলাকার কামাল হোসেনের পুত্র বশির উদ্দিন, একই অঞ্চলের সানাউল্লাহর পুত্র মিনহাজ এবং চ্যাংরালী বাউন্ডারী পাড়ার হোসেন আলীর পুত্র আবু বক্কর সিদ্দিক।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানে বশির উদ্দিন ও মিনহাজকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৯৯ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ২৩ বোতল উনক্যারেক্স এবং ২৭৬ বোতল স্কাফ সিরাপ রয়েছে।
এই সফলতার পরপরই র্যাবের আভিযানিক দল চ্যাংরালী বাউন্ডারী পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি চালায়। সেখান থেকে আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতারের পাশাপাশি তার গোপন আস্তানা থেকে আরও ৭৪৪ বোতল নিষিদ্ধ স্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত অঞ্চল থেকে অবৈধ উপায়ে এই নিষিদ্ধ ভারতীয় সিরাপগুলো এনে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে আসছিল।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মতে, যশোর অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে র্যাব-৬ এর বর্তমান কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স এক অনন্য ও দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর আপসহীন মনোভাব, কঠোর দিকনির্দেশনা এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দূরদর্শী আভিযানিক পরিকল্পনার কারণেই যশোর র্যাব একের পর এক সফল নন্দিত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছে। অপরাধীদের ধরতে তাঁর এই ক্লান্তিহীন ও অতন্দ্র প্রহরার ফলেই বড় বড় মাদক সিন্ডিকেটগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের এই বলিষ্ঠ ও প্রশংসনীয় নেতৃত্বের কারণে যশোরবাসী এখন অনেকটাই স্বস্তিতে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর অ্যাকশন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

