যশোরে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তরুণ সাংবাদিক সাকিনের আত্মহত্যা!

যশোরে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তরুণ সাংবাদিক সাকিনের আত্মহত্যা!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক আবেগঘন ও চিরবিদায়ের ইঙ্গিতবাহী স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সাকিন হোসেন (২৮) নামের এক তরুণ সাংবাদিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) রাত ৯টার দিকে যশোর শহরের কোতয়ালী থানাধীন শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে এই বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিন হোসেন যশোরের স্থানীয় দৈনিক ‘স্বর্ণভূমি’ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ রাত ৯টার দিকে সাকিনকে তাঁর নিজ শয়নকক্ষের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ঘরের ভেতর ঝুলন্ত দেহ দেখে স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ফেসবুকে মৃত্যুর আগাম বার্তা: আত্মহত্যার আগে সাকিন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বেশ কিছু হতাশাজনক পোস্ট করেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আত্মহত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর ওয়ালে লেখেন, “বিদায় পৃথিবীর…”। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “রাত ৯ টা বেঁধে রেখো”। এছাড়াও গত ১৩ জুলাই তাঁর দেওয়া আরেকটি পোস্টে লিখেছিলেন, “তার ফ্রেন্ড লিস্টে আমি ছাড়া সবাই আছে”। একের পর এক এমন আবেগাক্রান্ত পোস্টের পর তাঁর এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা সহকর্মী ও বন্ধুদের মাঝে গভীর স্তব্ধতা ও শোকের জন্ম দিয়েছে।

সাকিনের ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের ধারণা, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সাথে তাঁর তীব্র পারিবারিক কলহ ও মান-অভিমান চলছিল। ঘটনার দিনও স্ত্রীর সাথে রাগারাগি বা কোনো বিষয়ে তুমুল মনোমালিন্য হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে তিনি এই আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *