কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষালয় মক্তব থেকে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে ১০ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির এক অবুঝ শিশুকে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার এক কিশোর এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল ৭টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম রিফাত প্রামাণিক (১৭)। সে বানিয়াপাড়া এলাকার আসলাম প্রামাণিকের ছেলে এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার এই শিশুটি ছোটবেলা থেকেই বানিয়াপাড়া এলাকায় তার নানার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালেও সে বাড়ির পাশে একটি স্থানীয় মক্তবে পবিত্র কোরআন শিক্ষার জন্য যায়। পড়া শেষে বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে শিশুটি সহপাঠীদের সাথে মক্তবের ভেতরেই অপেক্ষা করছিল। অভিযুক্ত রিফাতের আপন ছোট বোনও একই মক্তবে ওই শিশুটির সাথে পড়াশোনা করে।
বৃষ্টি একটু কমলে রিফাত মক্তব থেকে তার বোনকে ছাতা মাথায় দিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু এর পরপরই তার মনে কুৎসিত লালসা জাগ্রত হয়। সে পুনরায় মক্তবে ফিরে আসে এবং শিশুটিকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বলে, “আমার বোন পাশের একটি বাড়িতে আছে, সে তোমাকে ডাকছে।” সরল বিশ্বাসে ১০ বছরের শিশুটি রিফাতের ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে রওনা হয়। কিন্তু রিফাত তাকে পাশের বাড়িতে না নিয়ে, মক্তবের অদূরে অবস্থিত একটি নির্জন পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির হাত-পা শক্ত করে বেঁধে এবং চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সেজন্য মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়।
ঘটনার সময় স্থানীয় এক পথচারী ওই পরিত্যক্ত ঘরের পাশ দিয়ে মহাসড়ক ধরে যাওয়ার সময় ভেতর থেকে শিশুর চাপা গোঙানি ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। সন্দেহবশত তিনি ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই রিফাতকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ধর্ষক রিফাত তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে ফেলে দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত তার নানার বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিকেলে তাকে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসা জন্য কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা গণমাধ্যমকে বলেন, “নানির কাছে থেকে নাতনি আমার পড়াশোনা করত। প্রতিবেশী একটা ছেলে তার জীবনটা এভাবে ধ্বংস করে দেবে তা ভাবিনি। আমরা থানায় এসেছি, মামলা করেছি। প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি, এই নরপশুর যেন কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি হয়।”
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশু ধর্ষণের এই জঘন্য ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করেছি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির শরীরে ধর্ষণের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিফাত ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে। তবে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য সকল স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।

