কারাগার থেকে পলায়নকৃত হাজতি আটক,সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন ৩ কারারক্ষী

কারাগার থেকে পলায়নকৃত হাজতি আটক,সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন ৩ কারারক্ষী

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

খুলনা জেলা কারাগার থেকে অভিনব কৌশলে দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হাজতি ইমন মাঝিকে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তারে অনন্য ভূমিকা রাখায় তিন সাহসী কারারক্ষীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) জনাব মনির আহম্মেদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয়ভাবে তাঁদের এই পুরস্কার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সাথে তিনি জানান, এই সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করতে কারা অধিদপ্তরে বিশেষ সুপারিশ পাঠানো হবে।

পুরস্কৃত হওয়া সেই তিন চৌকস কারারক্ষী হলেন,কারারক্ষী ইমানুর রহমান শিপন,কারারক্ষী মো. মিলন,,কারারক্ষী মো. রাব্বি।

কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে পুরুষ ওয়ার্ডে অবস্থানকালে হাজতি ইমন মাঝি অত্যন্ত চতুরতার সাথে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মহিলা ওয়ার্ডের বাথরুমের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর সে বাথরুমের পাইপ বেয়ে বেপরোয়াভাবে কারাগারের পূর্ব পাশের উঁচু সীমানা প্রাচীর টপকে বাইরে পালিয়ে যায়। বিষয়টি কর্তব্যরত কারারক্ষীদের দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই সমগ্র কারাগারে ‘পাগলা ঘণ্টা’ বাজিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

ঘটনার পরপরই খুলনা জেলা কারাগারের সুপার আবু সায়েমের নেতৃত্বে কারারক্ষী এবং পুলিশের একাধিক চৌকস টিম তাৎক্ষণিক মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামে। শহরের সম্ভাব্য সকল প্রবেশ পথ, মোড় ও গোপন আস্তানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। তীব্র অনুসন্ধান, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং ডিআইজি প্রিজনস জনাব মনির আহম্মেদের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় কারারক্ষী শিপন, মিলন ও রাব্বির অতন্দ্র তৎপরতায় পালিয়ে যাওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় পলাতক ইমন মাঝিকে পুনরায় অবরুদ্ধ ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন অভিযানকারীরা।

এই সফল অভিযান ও সম্ভাব্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর পর খুলনা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক জনাব মনির আহম্মেদ বলেন, “কারারক্ষীদের এই তাৎক্ষণিক অ্যাকশন এবং পেশাদারিত্ব সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের এই তৎপরতার কারণেই এক জন বিপজ্জনক বন্দিকে দ্রুততম সময়ে খাঁচায় পোরা সম্ভব হয়েছে। এই তিন কারারক্ষীকে আমরা স্থানীয়ভাবে পুরস্কৃত করেছি এবং কারা অধিদপ্তর থেকে তাঁদের বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদানের জন্য আমরা জোর সুপারিশ পাঠাচ্ছি।”

পুনরায় গ্রেপ্তারের পর আইনি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শেষে ওই হাজতিকে আবারও কঠোর নজরদারিতে খুলনা জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কারাগারের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে এই পলায়নের নেপথ্যে কোনো নিরাপত্তা গাফিলতি বা কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *