স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দোষী শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে আগামী ৭২ ঘণ্টার একটি আলটিমেটাম প্রদান করেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা “আমার ভাই আহত কেন, জবাব চাই জবাব দাও”, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “নিরাপদ ক্যাম্পাস, আমাদের অধিকার”, “সন্ত্রাসীদের জায়গা এই ক্যাম্পাসে হবে না”—সহ বিভিন্ন অধিকার আদায় ও প্রতিবাদী স্লোগানে পুরো প্রশাসনিক ভবন চত্বর প্রকম্পিত করে তোলেন। পরবর্তীতে তারা নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপির বিবরণ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৭ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার একটি ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন শিক্ষার্থীরা। খেলা চলাকালীন ও শেষ হওয়ার মুহূর্তে এআইএস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর তীব্র কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রক্টরের উপস্থিতিতেই এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়ার পর দেখে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয় । পরবর্তীতে জিমনেসিয়ামের বাইরে ও শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থেকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়, যার ফলে তিনি বর্তমানে তীব্র শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
স্মারকলিপিতে হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি সর্বোচ্চ নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের স্থান। এ ধরনের নগ্ন ও কাপুরুষোচিত সহিংসতা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণের পর যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। ওই প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে যথাযথ ও কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে উপাচার্যের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে যদি দৃশ্যমান ও কার্যকরী আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। ছবি সংগৃহীত।


