যশোরে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২৯ বছরের যুবকের প্রাণ

যশোরে ডেঙ্গু কেড়ে নিল ২৯ বছরের যুবকের প্রাণ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোহেল হোসেন (২৯) নামে এক যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে যশোর জেলায় ডেঙ্গুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। গত ৪ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সোহেল অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া মডেল কলেজ এলাকার সৌদি প্রবাসী জুয়েল হোসেনের ছেলে। এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত সোহেল হোসেন গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে তীব্র জ্বর ও ডেঙ্গুর নানাবিধ উপসর্গে ভুগছিলেন। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ জ্বর মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে গত শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার আরও অবণতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করেন। তবে স্বজনরা তাঁকে তাৎক্ষণিক ঢাকায় না নিয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে সেখানেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব এই অকাল মৃত্যুর বিষয়ে জানান, যুবক সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থাকলেও শুরুতে তিনি বা তাঁর পরিবার অবহেলা করে হাসপাতালে আসেননি। একদম শেষ মুহূর্তে যখন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কার্যকারিতা হারাতে বসেছিল, তখন তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। হাসপাতাল থেকে দ্রুত ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও স্বজনরা প্রথমে খুলনায় নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সোহেল ডেঙ্গুর চরম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। বর্তমান বর্ষাকালীন আবহাওয়া ও চারপাশের পরিবেশের কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। তাই যেকোনো ধরনের জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।” একই সাথে তিনি এডিস মশার বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে এবং জমে থাকা পানি অপসারণের জোর আহ্বান জানান।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারিভাবে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন এই ১৭ জনের মধ্যে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি আছেন ১৪ জন এবং বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন। তবে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেলের মৃত্যুর প্রতিবেদনটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দেরিতে পৌঁছানোয়, সর্বশেষ নিয়মিত সরকারি প্রতিবেদনে তাঁর নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *