যশোরে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন হাম ও নতুন ৬ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

যশোরে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন হাম ও নতুন ৬ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর জেলায় ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ দিন দিন আরও বাড়ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করে বিশেষ চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন হাম ও ডেঙ্গুর সমসংখ্যক রোগী। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে যশোরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন দপ্তরের প্রকাশিত হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্তের পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ৩ জন রোগী পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ৬ জুলাই পর্যন্ত জেলাজুড়ে মোট ৮১১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তীব্র উপসর্গ থাকায় ৬০৭ জনকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যেই ৫৯৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৯ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া, সোমবার একদিনেই হামের লক্ষণযুক্ত আরও ৫১৩টি সন্দেহজনক নমুনা ল্যাব পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিভিল সার্জনের ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সমসংখ্যক অর্থাৎ ৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। সরকারি হিসাব মতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত জেলা মোট ১৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারিভাবে শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫০ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, চিকিৎসাধীন এই ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জনই অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১ জন বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান, “জেলায় ডেঙ্গু ও হাম— এই দুটি রোগ প্রতিরোধেই স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত কড়া নজরদারি, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় নিবিড় চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি হামের হাত থেকে কোমলমতি শিশুদের রক্ষা করতে সময়মতো প্রতিটি শিশুর ইপিআই (EPI) টিকাদান সম্পন্ন করার জন্য আমি সকল সচেতন অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *