স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা এলাকায় সাতসকালে এক পৈশাচিক ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ড ঘটনা ঘটেছে। প্রেম সংক্রান্ত চরম বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেনের জের ধরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তাঁর দুই অবুজ কন্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক উন্মত্ত ঘাতক। এই নৃশংস তাণ্ডবে আরও একজন গুরুতর জখম হয়ে রাজধানী ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি বহুতল ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে নিহতরা হলেন— কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার লইট্রা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা শাহিনুর বেগম এবং তাঁর দুই উঠতি বয়সী মেয়ে সায়মা আক্তার ও ইকরা। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। আজ সকাল ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে এক ঘাতক যুবক ধারালো রামদা ও ছোরা নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ঘরটির মেঝেতেই ছটফট করতে করতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মা শাহিনুর বেগম এবং তাঁর দুই কন্যা সায়মা ও ইকরা। এ সময় ঘরের ভেতর থাকা আরও একজন বাঁচাতে এলে তাঁকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
সকাল বেলা ঘর থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশেপাশের কৌতূহলী ও সচেতন প্রতিবেশীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ওই বাসার দিকে ছুটে আসেন। এ সময় ঘরের ভেতর রক্তাক্ত লাশ এবং রক্তমাখা অস্ত্র হাতে এক যুবককে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখে স্থানীয়রা চারদিক থেকে ধাওয়া করে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশের একটি বড় দল দ্রুত স্পটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গণধোলাইয়ের শিকার রক্তাক্ত ঘাতককে আটক করে কড়া পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ও প্রাথমিক তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত মেয়েদের কারো সাথে ঘাতক যুবকের দীর্ঘদিন ধরে গভীর প্রেম সংক্রান্ত টানাপোড়েন এবং পরিবারের সাথে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিরোধ চলে আসছিল। সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন থেকেই ঘাতক যুবক এই নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক রহস্য বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ ও রায়পুর থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জঘন্যতম অপরাধ। ইতিমধ্যেই পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ও সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, সিসিটিভি ফুটেজসহ যাবতীয় আলামত ও প্রমাণের খতিয়ান সংগ্রহ করেছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া পুরোদমে সচল রয়েছে। এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় রায়পুর থানায় একটি কঠোর ও নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ছবি সংগৃহীত।

