স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরের ভেতর কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে প্রিজন ভ্যানে থাকা এক বন্দি আসামির কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট ছুড়ে দেওয়ার সময় দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশ। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালত চত্বরের প্রধান ফটকের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক আটক দুই যুবক এবং কারাগারে থাকা এক আসামিসহ সর্বমোট তিনজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন—যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ডালমিল এলাকার হাসান গাজীর ছেলে শাহাজান গাজী (২৪) এবং শংকরপুর এলাকার আলমগীরের ছেলে দিপু (২৫)।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা অভি ইসলাম প্রান্ত নামে এক বিচারাধীন কয়েদি যুবক একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। আদালতের প্রাত্যহিক বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিকেল ৪টার দিকে তাকে অন্যান্য আসামিদের সাথে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের বিশেষ প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। ঠিক ওই মুহূর্তে বাইরে ওত পেতে থাকা শাহাজান ও দিপু সুকৌশলে একটি ছোট পলিথিনের পোটলা ভ্যানের ভেতরে থাকা বন্দি প্রান্তর উদ্দেশ্যে ছুড়ে মারে।
পোটলাটি ভ্যানের ভেতর পড়ার সাথে সাথেই সেখানে দায়িত্বরত কড়া সেন্ট্রি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসে বিষয়টি। কোর্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যানের ভেতর থেকে পোটলাটি উদ্ধার ও জব্দ করে এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আদালত চত্বর থেকেই ধাওয়া দিয়ে শাহাজান ও দিপুকে হাতেনাতে অবরুদ্ধ করে আটক করে। পরবর্তীতে জব্দকৃত পোটলাটি সবার সামনে খুলে তার ভেতর থেকে নীল রঙের পুড়িয়া করা ৬ পিস ক্ষতিকর ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই কোর্ট পুলিশের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে যশোর সদর কোর্টের ইন্সপেক্টরকে (কোর্ট পরিদর্শক) অবহিত করেন।
এ বিষয়ে যশোর সদর কোর্টের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) খাইরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আদালত চত্বরে মাদক সরবরাহের এই ধৃষ্টতার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। মামলায় মাদক গ্রহণকারী কয়েদি অভি ইসলাম প্রান্তসহ মাদক সরবরাহকারী শাহাজান ও দিপুকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। আটক দুই যুবককে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।” আদালত চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে কোর্ট প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


