উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট!

উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের লালদীঘির পাড়স্থ অভিজাত রেস্তোরাঁ “ভোজন বাড়ি” এবং ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত বিখ্যাত “অনন্যা ঘোষ ডেয়ারি”র কারখানায় এক বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। আজ বুধবার (১৭ জুন) দিনব্যাপী শহরের এই দুটি নামী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ নানা গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়ায় সর্বমোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম।

আদালত ও অভিযান সূত্র থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে আদালতের বিশেষ টিমটি প্রথমে শহরের লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত অভিজাত ও জনাকীর্ণ রেস্তোরাঁ ‘ভোজন বাড়ি’তে প্রবেশ করে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের বসার জন্য রেস্তোরাঁর বাইরের অংশ বেশ পরিচ্ছন্ন ও চমৎকারভাবে সাজানো থাকলেও ভেতরের রান্নাঘরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো ও চরম অপরিচ্ছন্ন। এছাড়া ফ্রিজে ও বাইরে গ্রিলের মাংস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সংরক্ষণ করাসহ নানা ধরনের গুরুতর অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলে টিমটি। এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার ও বিশুদ্ধ খাদ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ভোজন বাড়ির মালিক সোহেল মাহমুদকে তাৎক্ষণিক ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার মোট টাকার মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার টাকা নগদ আদায় করা হয় এবং বাকি ৭০ হাজার টাকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে পরিশোধের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।

ভোজন বাড়িতে অভিযান শেষ করে আদালতের টিমটি দ্রুত শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত বিখ্যাত মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অনন্যা ঘোষ ডেয়ারি’র কারখানায় হানা দেয়। সেখানে গিয়ে ডিবির টিম ও ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখতে পান, কারখানার ভেতরে কারিগর ও কর্মীরা সম্পূর্ণ খালি গায়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় কাজ করছেন, যার ফলে খাবারে শরীরের ঘাম মিশছে। এছাড়া তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কাই করছেন না। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, সেখানে তৈরি করা বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও মিষ্টির রসের মধ্যে ক্ষতিকর মৃত মশা ও মাছির উপস্থিতি পাওয়া যায়। এমনকি যে কক্ষে মিষ্টি ও ছানা উৎপাদন করা হচ্ছে, সেই কক্ষের ভেতরে পাখির বাসা এবং কারখানার ভেতরে পাখির অবাধ চলাচল ও মলমূত্র ত্যাগের প্রমাণ লক্ষ্য করা যায়।

মিষ্টি কারখানার ভেতরের এমন চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিহির ঘোষের ছেলের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন বিজ্ঞ বিচারক। একই সাথে আগামীতে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ওয়ানটাইম ক্যাপ-গ্লাভস ব্যবহার করে মিষ্টি তৈরির জন্য কারখানার কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

আজকের এই অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহিবুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরা। শহরের সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এমন জনকল্যাণমুখী ঝটিকা অভিযান আগামীতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *