স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক ও সফল চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১১ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বুধবার (১৭ জুন) দিনব্যাপী সীমান্ত সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই ঝটিকা অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত গলে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল বাংলাদেশে পাচার করে আনা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নির্দেশনায় একটি বিশেষ চৌকস টহলদল মাঠে নামে। বিজিবি’র এই বিশেষ টিমটি বেনাপোল বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট), আমড়াখালী চেকপোস্ট এবং বেনাপোল আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় একযোগে সীমান্ত চোরাচালান বিরোধী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় ৫৫ পিস দামী শাড়ি, ১০৩টি বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু খাদ্য সামগ্রী, ২২৪ পিস মারাত্মক ক্ষতিকর ও আমদানিনিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ৩টি ভারতীয় তৈরি পোশাক, ১ হাজার ৫৭৭টি বিভিন্ন প্রকার চকলেট, ৩.৫ কেজি কিসমিস, ৪২ প্যাকেট ফুসকা, ৭ কেজি জিরা এবং ৫১৪টি ভারতীয় নামী ব্যান্ডের কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করে জব্দ করতে সক্ষম হন।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) নিশ্চিত করেছে যে, আজ দিনভর অভিযানে আটককৃত সর্বমোট ভারতীয় চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক প্রাতিষ্ঠানিক সিজার মূল্য ১১,১৩,৩০৫/- (এগারো লক্ষ তেরো হাজার তিনশত পাঁচ) টাকা। বিজিবি’র পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এমন কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত কসমেটিক্স ও অন্যান্য মালামাল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

