পুলিশের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

পুলিশের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে অপপ্রচার নয়, বরং গঠনমূলক পরামর্শ ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের চলমান কঠোর আভিযানিক সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা ও চক্রান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুলিশ মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে শতভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। আজ বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টায় কালীগঞ্জ থানা ভবনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মাদক প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ জেলার নবাগত পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী কালীগঞ্জ থানা এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান প্রতিনিয়ত চলমান রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কারণে মাদক সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘মাসিক চাঁদা আদায়ের’ মতো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সচেতন মহলের উচিত এসব বানোয়াট প্রোপাগান্ডায় কান না দেওয়া।

সভায় বিগত ছয় মাসের আভিযানিক সাফল্যের খতিয়ান ও উদ্ধারকৃত মাদকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ওসি জানান, বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চলতি ২০২৬ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় মাদকসংক্রান্ত মোট ৪১টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে থানা পুলিশের টিম ৪ দশমিক ৪৬৫ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ৩৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪০ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ১৯ বোতল ফেনসিডিল এবং ১ হাজার মিলিলিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অন্যান্য যৌথ অভিযানে আরও ৩৪৮ বোতল ফেনসিডিল, দুটি বড় ট্রাক এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। শুধু মাদকই নয়, একই সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪টি ওয়ান শুটার গান, ২টি তাজা কার্তুজ, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি রিভলভার এবং ৪টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে অপরাধীদের বড় ধরনের নাশকতা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ।

তিনি আরও তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিভিন্ন সফল অভিযানে অপরাধীদের ব্যবহৃত ৯টি উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল, ১টি বড় ট্রাক্টর, ১টি রূপসা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস, ম্যাগাজিনসহ ১টি দামী বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, চোরাই স্বর্ণালংকার, অবৈধ ইউরিয়া সার, জাল নোট, ল্যাপটপ এবং ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত হওয়া তিনটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার আসামিদেরও ক্লুলেস অবস্থা থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ওসি জেল্লাল হোসেন পরিশেষে বলেন, মাদক একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এটি নির্মূলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনী, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা মাদকবিরোধী এই যুদ্ধকে আরও বেগবান করতে পারে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা কালীগঞ্জ থানার এই বিশাল সাফল্যকে সাধুবাদ জানান এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *