রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশ-ইনের নামে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটানোর অপচেষ্টা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী নানাবিধ গভীর ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় জোট। আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) বিকেলের দিকে ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহাসিক পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে এক বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন দেশাত্মবোধক ও প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ঝিনাইদহ শহরের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে শহরের ব্যস্ততম পায়রা চত্বরে এসে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এবং ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সম্মানীয় আমির অধ্যাপক আলী আজম মো: আবু বকর। এছাড়াও জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলীম, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল এবং এনসিপি এর কেন্দ্রীয় নেতা আরেফিন কাইসারসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পায়রা চত্বরের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আলী আজম মো: আবু বকর বলেন, “ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক পুশ-ইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ পুশ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে হলেও প্রতিহত করবে।” তিনি এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের আপামর দেশপ্রেমিক জনগণকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা ভারতের এই আগ্রাসী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে এবং দ্বিপাক্ষিক টেবিলে আরও কার্যকর, কঠোর ও দৃঢ় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ছবি সংগৃহীত।


