স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শহরতলীতে এক অসহায় বিধবা ও চার সন্তানের জননী (৪০)-কে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অপচেষ্টা এবং তাতে বাধা দেওয়ায় ধারালো চাকু দিয়ে গলা ও মুখ কেটে নৃশংসভাবে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় শহরতলীর মোবারককাঠি ঘোষপাড়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের (২৭) নামে এক বখাটে যুবককে একমাত্র নামীয় আসামি করা হয়েছে। গত বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে যশোর শহরতলীর একটি বসতবাড়িতে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে।
যশোর কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী একজন বিধবা এবং তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী। তাঁর বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট এক ছেলে ও এক মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। ফলে ওই নারী বাড়িতে অধিকাংশ সময় একাই জীবনযাপন করতেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী যুবক আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। কিন্তু ওই নারী লোকলজ্জা ও ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে কাদেরের প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাদের তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ খুঁজছিল।
গত বুধবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে ওই নারী ফজরের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে ওজু করার জন্য ঘরের বাইরে কলপাড়ে যান। এই সুযোগে ওত পেতে থাকা কাদের কৌশলে ঘরের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকে। ওই নারী ওজু শেষে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই ওত পেতে থাকা কাদের পিছন থেকে তাঁকে শক্ত করে জাপটে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এ সময় ওই নারী নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার থামাতে কাদের তার কোমর থেকে একটি ধারালো চাকু বের করে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ওই নারী চিৎকার জারি রাখলে, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যর্থ হয়ে কাদের তাঁর গলা ও মুখের বিভিন্ন অংশে চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ওই নারীর ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে রক্তাক্ত জখম হন। একপর্যায়ে নারীর গোঙানি ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে কাদের চাকু হাতেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর থেকে ওই নারীকে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চাকুর আঘাতে তাঁর মুখ ও গলার অংশ কেটে গেছে, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দেবরের ছেলে বাদী হয়ে আব্দুল কাদেরকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আব্দুল কাদের পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

