রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) :
ঝিনাইদহবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আন্দোলনের ফসল হিসেবে জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঝিনাইদহের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলাবাসীর মনে বইছে আনন্দের হিল্লোল, উঁকি দিচ্ছে নতুন আশা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার সকালে প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা ঝিনাইদহ শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪টি পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— ঝিনাইদহ শহরের চুটুলিয়া মোড় সংলগ্ন বিশাল মাঠ, মেডিকেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস) এলাকা, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক সংলগ্ন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের উত্তর পাশের খাস জমি এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১ একর খাস জমি। এছাড়া প্রতিনিধি দলটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারের নিকটবর্তী কুষ্টিয়া সড়কের পশ্চিম পাশের আরও একটি জমি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন— স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মাজহারুল ইসলাম, সদস্য সচিব উপল সীজার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবা।
এ সময় স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন— ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান, ডা. হাসানুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঝিনাইদহে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত কয়েক বছর যাবত জেলার সর্বস্তরের মানুষ, সুশীল সমাজ ও ছাত্র সমাজ তীব্র আন্দোলন, গণস্বাক্ষর এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে। জেলাবাসীর তীব্র দাবি— মেডিকেল কলেজটি যেন কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে না নিয়ে জেলা শহর সংলগ্ন চুটুলিয়ার মোড়, ম্যাটস ভবন এলাকা অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ একর খাস জমিতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারের পাশে যে জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়েছে, সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ভৌগোলিক কারণে ওখানে যদি এই কলেজটি নির্মাণ করা হয়, তবে ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার (সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু) সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা এবং শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন।” তিনি সার্বিক জনস্বার্থ বিবেচনা করে জেলা শহরের কাছাকাছি যেকোনো একটি স্থান চূড়ান্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ঝিনাইদহবাসীর প্রাণের আকুতি পৌঁছে দেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, ঝিনাইদহ জেলা শহর সংলগ্ন স্থানে মেডিকেল কলেজটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের অবহেলিত স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। ছবি সংগৃহীত।


