মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখার দাবিতে ঝিনাইদহে তৃতীয় দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা।
সোমবার (৮জুন) সকাল ১০টার দিকে শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ঝিনাইদহ শাখার সামনে ‘সচেতন গ্রাহকবৃন্দ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ তিন শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। তারা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের লাখো গ্রাহক এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এ ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে তাদের আমানত ও রেমিট্যান্স লেনদেন পরিচালনা করেন। তাই ব্যাংকটির স্বকীয়তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ব্যাংকটির প্রতি আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে। তারা বলেন, এ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং লাখো গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। চলমান পরিস্থিতির দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে প্রবাসীদের একটি অংশ বিকল্প মাধ্যম বেছে নিতে পারেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক সালফী আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল মোমেন, জিয়াউল ইসলাম খান, মাহাবুবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, সবুর হোসেন, আলতাফ হোসেন, নূরজাহান সাত্তার, ইয়াসমিন আরা, রিজিয়া বেগম ও ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহাবুবুর রহমান।
মানববন্ধন থেকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকটির প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। ছবি সংগৃহীত।


