৮৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন

 ৮৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮৫ ছাত্রীর মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অন্যদের অবস্থাও আগের চেয়ে উন্নতির দিকে রয়েছে এবং কেউ আশঙ্কাজনক নন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত বুধবার রাতে হলের ডাইনিংয়ে ১৬৬ জন শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণ করেন। এরপর ভোর চারটা থেকে একে একে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ৮৫ জনের বেশি ছাত্রী বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে তাদের যশোর শহরতলির পুলেরহাটে অবস্থিত আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এতসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসক, ইন্টার্ন, নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্টসহ সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করে জরুরি সেবায় নিয়োজিত করা হয়। প্রথমে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে পরে তাদের মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এএসএম রিজওয়ান বলেন, খাবার থেকে সৃষ্ট প্রদাহজনিত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণেই ছাত্রীরা অসুস্থ হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রী সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন।
শুক্রবার অসুস্থ ছাত্রীদের দেখতে হাসপাতালে যান যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। এছাড়া শনিবার সকালে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
অসুস্থ ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের সহপাঠীরাও। তারা হাসপাতালে এসে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ ও খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতা করছেন। চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী, সহপাঠী ও অভিভাবকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যয় সাহা জানান, কয়েকজন ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের আইসিইউতে নিতে হয়েছিল এবং রক্তেরও প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা করেছে।
হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হওয়ায় একসাথে এত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *