স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের সময় এক বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম ঝিকরগাছা এলাকায় হাইওয়েতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কারের ভেতর তৈরি করা বিশেষ চেম্বার থেকে সর্বমোট ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এই আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গাড়িটিতে থাকা দুই শীর্ষ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝিকরগাছা থানাধীন বেনেয়ালী বাজার এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিরা হলেন যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানাধীন দৌলতপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত নওশের আলী মোড়লের ছেলে মোঃ বাবলুর রহমান (৫৫) এবং একই থানার বড় আঁচড়া মাঠপাড়া এলাকার মোঃ আজগার আলীর ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান (৩৪)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল আগে থেকেই বেনেয়ালী বাজারস্থ ‘শাপলা ব্রিকস’ নামীয় ইটভাটার পূর্ব পাশে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর ওত পেতে ছিল। সন্দেহভাজন একটি টয়োটা ব্র্যান্ডের এক্স করোলা মডেলের সিলভার রঙের প্রাইভেট কার সেখানে পৌঁছালে সংকেত দিয়ে সেটির গতি রোধ করা হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে কারটির সামনের ড্যাশবোর্ডের ভেতরের অংশ এবং রানিং বোর্ডের নিচে বিশেষ মেকানিজমে তৈরি করা গোপন বক্স বা লুকানো চেম্বারের সন্ধান পায় ডিএনসি টিম। সেই গোপন বাক্স থেকে নীল রঙের প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় ১০ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক পরিবহনের দায়ে অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি (০১ টি) জব্দ করার পাশাপাশি আসামিদের হেফাজত থেকে মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার এই বিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে সুকৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদকের বড় চালান সরবরাহ করে আসছিল। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক জনাব মদন মোহন সাহা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

