সাবিরা সুলতানার এক দশকের রাজনৈতিক ও আর্থিক উত্থান

সাবিরা সুলতানার এক দশকের রাজনৈতিক ও আর্থিক উত্থান

রাশিদুল আক্তার ববি :

যশোর-২ আসনের পরিচিত মুখ এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোছা. সাবিরা সুলতানা এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা থেকে উঠে এসেছে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক সাফল্যের চিত্র। হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি প্রায় ৫ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক।

সাবিরা সুলতানার রাজনীতিতে আসাটা ছিল অনেকটা নাটকীয় ও বেদনাদায়ক। তাঁর স্বামী, ঝিকরগাছার জনপ্রিয় বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে নিখোঁজ ও পরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর ঘরের গৃহিণী থেকে সরাসরি রাজপথের নেতৃত্বে উঠে আসেন সাবিরা। ২০১৪ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হয়েছে।

বার্ষিক আয় ও পেশা:

৪৯ বছর বয়সী সাবিরা সুলতানা হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে ‘গৃহিণী, ব্যবসা ও সমাজসেবা’ উল্লেখ করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক। সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা। আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য খাত, বাড়ি ভাড়া এবং অংশীদারি ব্যবসা।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ:

অস্থাবর সম্পদ: সাবিরা সুলতানার অস্থাবর সম্পদের অর্জনমূল্য ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা হলেও তিনি এর বর্তমান বাজারমূল্য আড়াই কোটি টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে নগদ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং অংশীদারি ব্যবসায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়াও তাঁর কাছে ৩০ ভরি সোনা আছে।

স্থাবর সম্পদ: তাঁর ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩৭১ শতক কৃষি জমি, ৩০৭ শতক অকৃষি জমি, একটি ভবন এবং দুটি ফ্ল্যাট। এই সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যও তিনি আড়াই কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন ও মামলা:

সাবিরা সুলতানা বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, তবে এর আগে তিনি আটটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকায় দলের ভিত্তি শক্ত রাখার পুরস্কার হিসেবে বিএনপি এবার তাঁকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করেছে।

পেশায় নিজেকে ‘গৃহিণী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচ্চমাধ্যমিক পাশ এই নেত্রী এবার সংসদে স্থানীয় মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ফাইল ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *